বুধবার, ২৫ মে, ২০১১

অব্যবহৃত জমি ব্যবস্থাপনা


দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অনেক আবাদী উর্বর জমি আবাদ বর্হিভূত বিভিন্ন কাজে ব্যবহারের ফলে প্রতিবছর আবাদি জমির পরিমান হ্রাস পাচ্ছে। অথচ দেশে ভূমি ব্যবস্থাপনার নীতি না থাকায় অর্থনৈতিক ভাবে আমরা পিছিয়ে পরছি। খাদ্যে স্বয়ংস্বম্পূর্ণ হতে পারছি না। আর এ জন্য চাই পরিকল্পিত ও বিজ্ঞানসম্মত ভূমি ব্যবস্থাপনা এবং ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত নীতিমালা। এ সকল অঞ্চলে পরিকল্পিত, বিজ্ঞানসম্মত, টেকসই কৃষিপণ্য উৎপাদন ব্যবস্থাই পারে ভূমির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে। বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল, মহা সড়ক ও স্থানীয় সড়কের দু’ধার, পরিত্যক্ত জলাধার বা বড় জলাধারের পাড়, সরকারি ভাবে অধিগ্রহণকৃত বা সীমানা প্রাচীর বেষ্ঠিত সরকারি পরিত্যক্ত জমি বা দীর্ঘ দিন অব্যবহৃত কোন স্থাপনা সংলগ্ন পরিত্যক্ত জমিতে বর্ধিত কৃষিপণ্য উৎপাদন করা সম্ভব। আর এ জন্য সর্বাগ্রে প্রয়োজন ভূমি ব্যবস্থাপনায় সকলের আগ্রহ থাকা। পাশাপাশি সরকারের উচিত ভূমি ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়নের। সর্বাগ্রে 9টি দফা বিবেচনায় নেয়া যেতে পারে:
1.        দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা অব্যবহৃত জমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিতকরণের সমন্বিত গবেষণা কাজ এগিয়ে নেয়া
2.       অব্যবহৃত জমির মাটির প্রকৃতি ও গুণাগুণের শ্রেণীবিভাগ করা
3.       কৃষিজ উৎপাদনের জন্য এলাকাভিত্তিক মানচিত্রে সন্নিবেশিত করা (শস্য পর্যায় ব্যবস্থা মাথায় রেখে)
4.       শুকনা মৌসুমে সেচের যথোপযুক্ত ব্যবস্থা করা
5.       ভূমিহীন জনগোষ্ঠীকে যথাযথভাবে সংগঠিত ও প্রশিক্ষিত করে উক্ত জমিতে প্রবেশাধিকার দিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা
6.       সরকারিভাবে শস্য উৎপাদন প্রক্রিয়াকে সফলভাবে এগিয়ে নিতে প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করা। বিশেষ করে ফি বছর বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখা
7.       উক্ত এলাকাগুলোতে যোগাযোগ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ ঘটানো, পাশাপাশি জনগণের মৌলিক চাহিদা শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, স্যানিটেশন ও পানীয়জলের সর্বোত্তম ব্যবস্থা নিশ্চিত করা
8.       দুর্যোগকালীণ জান-মালের নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনার দিকে নজর দেয়া
9.       প্রয়োজনে পৃথক মন্ত্রণালয় বা উন্নয়ন বোর্ড গঠন করে সকল কার্যক্রমের সম্প্রসারণ ঘটানো যেতে পারে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন