সোমবার, ২৩ মে, ২০১১

পরিবেশসম্মত কৃষি


মাটিতে কোটি কোটি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অণুজীব ও পোকা-মাকড় বসবাস করে। এরা মাটিতে থেকে মাটিরই খাদ্য তৈরি করে। পাশাপাশি নিজেরা জীবন ধারণ করে। আমাদের অজ্ঞতায় এই সকল অণুজীব অকালে মারা যাচ্ছে। বিশেষ করে কীটনাশক ব্যবহারের ফলে এসব অণুজীব ধংস হচ্ছে। এ সকল অণুজীব মাটিতে না থাকার ফলে মাটির পানি ধারন ক্ষমতাও কমে যাওয়ার পাশাপাশি শক্ত ও বালুময় হয়ে অনুর্বর হচ্ছে। এই অবস্থা থেকে বাঁচার জন্য আমরা গভীর নলকূপ দ্বারা পানি উত্তোলন করে মাটির পানির স্তর নিচে নিয়ে যাচ্ছি। জমিতে গভীর ভাবে চাষ করেও জমির উর্বরতা হ্রাস করছি। অন্যদিকে উচ্চ ফলনশীল বীজের নামে বিদেশী বীজ ব্যবহারের ফলেও মাটির অনেক ক্ষতি হচ্ছে। যা কি-না পরিবেশ সম্মত কৃষি ব্যবস্থার অন্তরায় বটে। এ জন্য চাই দেশের মাটিতে দেশীয় ভাল বীজের অধিকতর ব্যবহার। এ ক্ষেত্রে উল্লেখ্য যে বিদেশী উচ্চ ফলনশীল বীজ চাষে বেশি খরচ হয় রক্ষণাবেক্ষণ ও যত্নের জন্য এবং  পাশাপাশি উক্ত বীজ আবার সংরক্ষণ করাও যায় না। সব এলাকায় সমান ভাবে চাষও করা যায় না। দেশি বীজ সংরক্ষণ করা সহজতর। ফলে কৃষকদের বাড়তি টাকা ব্যয়ে সংগ্রহ করতে হয় না। এগুলো বালাই সহিষ্ণু এবং পরিবেশসম্মত। রাসায়নিক সারের পরিবর্তে জৈব সার ব্যবহার করা অতি উত্তম। এক্ষেত্রে গোবর সার, আবর্জনা পচা সার, কেঁচো সার, ছাই সার, হাঁস-মুরগির বিষ্ঠা সার, খইল সার, চা পাতা সার, কচুরিপানা সার ও প্রাণিজ সার এর কথা বলা যেতে পারে। অন্যদিকে কীটনাশকের পরিবর্তে প্রাকৃতিক ও দেশজ পদ্ধতিতে ফসলের ক্ষতিকর পোকামাকড় বা বালাই দমন করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে ফসলের জমিতে কাকতাড়ুয়া দিয়ে, আলোর ফাঁদ পেতে, হাত জাল দিয়ে, জমিতে গাছের ডাল পুঁতে দিয়েও পোকামাকড় বা বালাই দমন করা যেতে পারে। কীটনাশক ব্যবহারের ফলে উপকারী প্রাণি ব্যাঙ, সাপ বা কেঁচো পর্যন্ত মারা যাচ্ছে। এগুলো বেঁচে থাকলে ফসলের পোকা-মাকড় খেয়ে ফেলতো। সাপ ইঁদুর খায় তাই ইঁদুরের উৎপাত থেকেও আমরা রেহাই পেতাম। পরিবেশ সম্মত সেচের ক্ষেত্রে বলা যেতে পারে গভীর নলকূপের পরিবর্তে দোন, ডুলা বা সেউতি ব্যবহার করে মাটির উপরের স্তরের পানি ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে খরচও অনেক কম হবে। মাটির গভীরের পানিতে অনেক সময় আর্সেনিক পাওয়া যায়। আর্সেনিকের কবল থেকেও আমরা মুক্তি পেতে পরি। এছাড়া শস্য পর্যায় ব্যবস্থা তো আছেই। এতে এক দিকে যেমন বছরে নানা ফসল ফলাতে পারবো অন্যদিকে পরিবেশসম্মত কৃষির পাশাপাশি অর্থ সাশ্রয়ের ব্যপার তো রয়েছেই।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন