জাতিসংঘের এক ঘোষণায় ২০১১ বলা হয়েছে সবুজ প্রযুক্তি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে উন্নয়নশীল দেশে কৃষি খামারগুলোর উৎপাদন বাড়ানো উচিত। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাসায়নিক সার, কীটনাশক ইত্যাদির ব্যবহার কমিয়ে সবুজ প্রযুক্তি ব্যবহার করার উপরে জোড় দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি পানি ও প্রাকৃতিক সম্পদের উপরে বিশেষ গুরুত্ব দেয়ার কথা বলা হয়েছে। ঘোষণায় আরও বলা হয়, ২০৫০ সালে বিশ্বে প্রায় ৯শ’ কোটি মানুষকে বাঁচিয়ে রাখতে খাদ্য উৎপাদনের বর্তমান হার থেকে ৭০ থেকে ১শ’ ভাগ বাড়াতে হবে। অর্াৎ খাদ্য উৎপাদন ও ভয়াবহ খাদ্য সংকট দূর করতে কৃষি ব্যবস্থাকে পুরোপুরি সবুজ প্রযুক্তির আওতায় আনা জরুরি।
বিশ্বের মোট জনসংখ্যার সাত ভাগের এক ভাগ বা প্রায় ৯২ কোটি ৫০ লাখ মানুষ অপুষ্টিতে ভুগছে এবং অপুষ্টিতে ভোগা মানুষগুলো সুস্থ ও কর্ক্ষম থাকার জন্য যে পরিমান খাদ্য প্রয়োজন তা তারা পাচ্ছে না বলে জানানো হয়েছে। অপুষ্টিতে ভোগা মানুষগুলোর বেশির ভাগই বিশ্বের সাতটি দেশের বাসিন্দা। দেশগুলো হচ্ছে- বাংলাদেশ, চীন, কঙ্গো, ইথিওপিয়া, ভারত, ইন্দোনেশিয়া ও পাকিস্থান।
এ নিয়ে বাংলাদেশের বিজ্ঞানীদের এখনই ভাবার সময় এসেছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে সাথে নিয়ে নিরন্তর গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। প্রয়োজন রয়েছে সবুজ প্রযুক্তি কাজে লাগানোর।
· এ অবস্থায় প্রথমেই আবাদি জমির সরোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে এবং শস্য এলাকা চিহ্নিত করতে হবে। গবেষণা করে জমি উপযোগী শস্য আবাদ করতে হবে।
· কৃষি আবাদে মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশকের ব্যবহার কমাতে হবে এজন্য যে জীববৈচিত্র্য রক্ষা পাবে এতে প্রাকৃতিক পরিবেশ ঠিক থাকবে, জমির উর্বরা শক্তি বৃদ্ধি পাবে, শস্যে জীণ নকশায় পরিবতর্ন আসবে না, মানব শরীরে এর মারাত্মক প্রভাব পড়বে না।
· পুষ্টির বিষয়টি মাথায় রেখে প্রযুক্তি ব্যবহারে শুধু শস্য কণার উৎপাদন নিয়ে ভাবলে চলবে না, ভিটামিন ও প্রোটিন সমৃদ্ধ খাদ্যের উৎপাদন নিশ্চিত করতে হবে।
· উচ্চ ফলনশীল জাতের বীজ উৎপাদন নিশ্চিত করতে হবে এবং এ নিয়ে প্রাণান্ত পরিশ্রম করতে হবে বিজ্ঞানীদের। বীজস্বাস্থ্য অটুট থাকে এমন বীজ উৎপাদন নিশ্চিত করতে হবে। কারণ ভাল বীজে ভাল ফসল ফলে।
· সকল শস্যের জামর্প্লাজম সংরক্ষণ জরুরী।
· পরিবেশ, প্রকৃতি ও কৃষির ক্ষতি করে এমন শিল্প স্থাপন থেকে বিরত থাকতে হবে।
· কাবর্ন উৎপাদন ও প্রকৃতিতে অবমুক্তকরনের মানসিকতা থেকে বেড়িয়ে আসতে হবে সকলকে।
· পানি সম্পদ কাজে লাগাতে হবে। বিশেষ করে ভূ-উপরিভাগের মিঠা পানি ও বরষার পানির সুপরিকল্পিত ও কাযর্কর ব্যবহারের উদ্যোগ –পরিকল্পনা হাতে নিতে হবে।
· জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে কাযর্কর ভূমিকা রাখতে হবে সকলকে। এতে কৃষি জমির উপরে চাপ যেমন কমবে তেমনই খাদ্যের উপরেও চাপ কম থাকবে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন